যাত্রীবাহী লঞ্চ চলাচলের অনুমতির দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন বরিশাল ও ভোলার নৌশ্রমিকরা। স্বাস্থ্যবিধি মেনে লঞ্চ চলাচলের অনুমতি না দিলে পণ্যবাহী নৌযানের চলা বন্ধ করে দেয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।
মঙ্গলবার দুপুরে বরিশাল নৌবন্দরে আয়োজিত সমাবেশে নৌযান শ্রমিক ফেডারেশন বরিশালের সভাপতি শেখ আবুল হাশেম বলেন, ‘শিগগিরই লঞ্চের ওপর আরোপিত লকডাউন তুলে না নিলে আরও কঠোর কর্মসূচি নেয়া হবে। আমরা চাই স্বাস্থ্যবিধি মেনে লঞ্চ চলাচলের অনুমতি দেয়া হোক। লঞ্চশ্রমিকরা যেন দুবেলা খেয়ে বাঁচতে পারেন।’
তিনি বলেন, ‘লঞ্চমালিকরা যদি শ্রমিকদের বেতন বোনাস পরিশোধ না করেন, সরকার যদি আমাদের দাবি মেনে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পরও লঞ্চ চলাচলের অনুমতি না দেয়, তাহলে পণ্যবাহী নৌযান অবরোধের ডাক আসতে পারে।’
সমাবেশের পরে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে বরিশাল নদীবন্দর প্রদক্ষিণ করেন নৌশ্রমিকরা।
মঙ্গলবার সকালে লঞ্চ চালুর দাবিতে বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক ফেডারেশন বিক্ষোভ মিছিল বের করে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে সমাবেশ করেন শ্রমিকরা।
পরে তারা স্বাস্থ্যবিধি মেনে লঞ্চ চালুর দাবিতে জেলা প্রশাসক তৌফিক ই-লাহী চৌধুরীর মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী ও নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি দেন।ভোলা-ঢাকা রুটে যাতায়াত করা কর্ণফুলি লঞ্চের ম্যানেজার মোহাম্মদ আলাউদ্দিন বলেন, ‘শ্রমিকদের জীবন-জীবিকার বিকল্প ব্যবস্থা না করে দেয়া লকডাউনে সবচেয়ে বেশি দুরবস্থার শিকার যাত্রীবাহী লঞ্চশ্রমিকরা। বিকল্প উপায়ে যাতায়াত করতে গিয়ে যাত্রীদের দ্বিগুণের বেশি খরচ হচ্ছে এবং স্বাস্থ্যবিধিও মানা হচ্ছে না। এখন শুধু লঞ্চ ছাড়া সব কিছুই চলছে।’
তিনি বলেন, ‘আমরা স্বাস্থ্যবিধি এবং সব ধরনের শর্ত মেনে লঞ্চ চালাতে চাই। আমাদের লঞ্চ চালানোর অনুমতি দেয়া হোক।’
লঞ্চ চালুর দাবিতে ভোলায় নৌশ্রমিকদের বিক্ষোভআলাউদ্দিন আরও বলেন, ‘আমরা নৌশ্রমিকরা ঈদের আগে বেতন-বোনাস এবং সরকারি কোনো সহযোগিতা না পেয়ে চরম অমানবিকভাবে ঈদ করেছি। এখনও পরিবার-পরিজন মানবেতর জীবনযাপনে বাধ্য হচ্ছি।’
ভোলার ২৩টি ঘাট থেকে প্রতিদিন ঢাকা-ভোলা রুটে প্রায় ৪৬টি লঞ্চ চলাচল করে। এই খাতে শুধু ঘাট এলাকাতেই কর্মসংস্থান হয়েছে প্রায় ৫০ হাজার শ্রমিকের।করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউয়ের সংক্রমণ প্রতিরোধে চলমান লকডাউন ২৩ মে মধ্যরাত পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। রোববার ঈদের ছুটি শেষে প্রথম কার্যদিবসে এক প্রজ্ঞাপনে সরকারের এ সিদ্ধান্তের কথা জানায় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসায় সংক্রমণ প্রতিরোধে ১৪ থেকে ২১ এপ্রিল ‘কঠোর’ বিধিনিষেধসহ ‘সর্বাত্মক’ লকডাউন আরোপ করা হয়। পরে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শে সারা দেশে সর্বাত্মক লকডাউন আরও এক সপ্তাহ অর্থাৎ ২৮ এপ্রিল পর্যন্ত বাড়ায় সরকার।
এর মধ্যে আরও এক দফা বাড়িয়ে লকডাউনের মেয়াদ করা হয় ৫ মে মধ্যরাত পর্যন্ত। তা শেষ হওয়ার দুই দিন আগে ১৬ মে পর্যন্ত এই লকডাউন বর্ধিত করার সিদ্ধান্ত জানায় সরকার। সেটি শেষ হওয়ার দিন চলমান লকডাউন আরও এক সপ্তাহ বাড়িয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।
ঈদের আগে আন্তজেলা গণপরিবহন খুলে না দেয়ার কারণে ঘরমুখো মানুষের চাপ সামাল দিতে হিমশিম খেতে হলেও, সরকার তার আগের অবস্থান থেকে সরে আসেনি। আন্তজেলা গণপরিবহন বন্ধের সিদ্ধান্ত এখনও বহাল আছে।